বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

প্রতিটি বিকেল যেন এক একটি গল্প...

হাজারটা মানুষের ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা ,

অথবা বিষণ্ণ কারো বারান্দার গ্রিল ধরে দাড়িয়ে থাকা ।

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪

তীব্র আকর্ষণ করার ক্ষমতা যার আছে ,
মানুষ হিসেবে খারাপ হওয়াটাই ,
তার জন্য স্বাভাবিক ।

বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪

থাপড়ায়া সোজা করে দিব

"থাপড়ায়া সোজা করে দিব "এই টাইপের একজনের সাথে আমার পরিচয় আছে । রাসেল , আমার ক্লাসমেট এবং বন্ধুগত্রীয় একজন ।

কোন কারনে রেগে গেলে তার মুখ থেকে আপনা আপনি বের হয়ে আসে থাপড়ায়া সোজা করে দিব ।যদিও কখনো তাকে কাওকে থাপড়াইতে দেখা যায় নাই।

পরিচিত মানুষজন তার এই স্বভাব এর কথা জানলেও ,অপরিচিত কেও এটা সহজ ভাবে নিতে পারে না ।

বছরের শুরুতে ভার্সিটিতে নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে ।সিনিয়র হওয়ার সুবাদে তাদেরকে র্যাগ দেওয়ার মহান দায়িক্ত আমাদের ঘাড়ে ।

সেদিন আমি ,রাসেল সহ আরো কয়েকজন ক্যান্টিন এ বসে ছিলাম ।হঠাৎ দেখি 1st ইয়ার এর একটা মেয়ে এদিকে আসছে ।তাকে দেখেই আমাদের মাঝে "বড় ভাই" ভাব জেগে উঠলো ।মেয়েটার দিকে না তাকিয়ে আমরা নিজেদের ভেতর চোখাচোখি করলাম ।

মেয়েটা আমাদেরকে সর্ম্পূন অগ্রাহ করে পাশ দিয়ে হেটে চলে গেল ।

মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আমি বলে উঠলাম "মেয়েটার সাহস দেখলি ।মনে হল আমাদের দেখেই নি !"
রিয়াদ পাশ থেকে বলে উঠলো "বেয়াদপ একটা "

রাসেল চুপ করে ছিল ।হঠাৎ করে বলে উঠলো "মেয়েটাকে ডাক দে ।"

"থাক ।কি দরকার !"আমি বলে উঠলাম ।
রিয়াদ ততক্ষনে "এই মেয়ে ,এই মেয়ে "বলে ডাকা শুরু করছে ।

মেয়েটা ঘাড় ঘুড়িয়ে বলল "আমাকে ডাকছেন ?"
রিয়াদ -"হু ,তোমাকেই ডাকছি ।এদিকে এসো ।"

মেয়েটি আমাদের পাশে এসে দাড়াল ।অপিরিচিত কেও ডাকার কারনে বেশ নার্ভাস ।
রিয়াদ -কি নাম তোমার ?
মেয়ে -রিপা ।
আমি -কোন ইয়ার ?
মেয়ে -1st ইয়ার ।
রাসেল -কোন ডিপামেন্ট ?
মেয়ে -মাইক্রোবায়োলজি ।
রাসেল -আমরা কোন ডিপামেন্টের জানো ?
মেয়ে -জি না ভাইয়া ।
রাসেল -নিজের ডিপামেন্টের বড় ভাই দের চেনো না ।ক্যাম্পাসে এসো শুধু টই টই করে ঘুরে বেরাচ্ছ ।থাপড়ায়া সোজা করে দিব ।

মেয়েটির চোখে প্রথমে কিছুটা বিস্ময় দেখা গেল ।মুহূর্ত পরেই সেটা অশ্রুদাড়ায় রূপান্তরিত হল ।

আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই মেয়েটির কান্না শুরু হয়ে গেছে ।

কান্নাকাটি দেখে আমরা সবাই বিব্রত ।সবচেয়ে বেশি অবাক রাসেল ।সে ভাবতেই পারে নি তার কথা শুনে কেও কান্না করে দেবে !

(হঠাৎ করে লিখতে ইচ্ছা হল ।যতটুকু মাথায় এসেছিল ,লিখলাম ।এর পরে কি হবে সেটা যদি পরে মাথায় আসে তো লিখব ।লেখা চলতে থাকবে ।
আর যদি না আসে ,তবে এখানেই সমাপ্তি ।

এখন শুধুই অপেক্ষা। )
তীব্র আকর্ষণ করার ক্ষমতা যার আছে ,
মানুষ হিসেবে খারাপ হওয়াটাই ,
তার জন্য স্বাভাবিক ।
সচেতন মস্তিকে কারো সাথে কথা বলা মানে প্রয়োজন পূরণ করা ।
আর ,
অবচেতন মনে কারো সাথে কথা বলা মানে ভাললাগা ।
আপনি কারো সম্পর্কে যত বেশি জানবেন তত বেশি কাছে যাবেন ,
যত কাছে যাবেন তত বেশি অধিকার জন্মাবে ,
আর অধিকার জন্মালে রাজ্যের যত অভিমান এসে ভীড় করবে মনে ,
যত বেশি অভিমান জন্মাবে তত বেশি ভালোবাসবেন অথবা ঘৃনা করবেন ।।।

সোজা কথা

আপনি কাওকে পছন্দ করেন না ,এর মানে এই না যে সে খুব খারাপ ।
কারো কাছে সে হয়তো আপনার চেয়েও বেশি ভালো হতে পারে ।
কারো প্রতি আপনার ক্ষোভ থাকতেই পারে , এর মানে এই না যে "ও ভালো না "এই কথা আপনি জনে জনে বলে বেড়াবেন ।
প্রতিটি মানুষ'ই আলাদা ।এক জনের চিন্তা ,চেতনা ,পছন্দ ,অপছন্দ অন্যজনের চেয়ে পৃথক হবে এটাই স্বাভাবিক ।মিলে যাওয়াটাই কাকতালীয় ।
আপনার কোন বিষয় একজনের ভালো লাগতে পারে ,অন্য কারো খারাপও লাগতে পারে ।আপনার মতের সাথে কারো মত নাও মিলতে পারে ।অকারন তর্ক হতে পারে ।
সে ভুলও হতে পারে ,অথবা আপনি ।
হতেই পারে , হওয়াটাই স্বাভাবিক ।
আমার জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা মনে পরছে ।
সবে কলেজ শেষ করেছি ।
অ্যাডমিশন টেস্ট এর জন্য বাসা ছেড়ে প্রথমবারের মত মেসে উঠেছি ।
২ জন ছাড়া মেসের কাওকেই চিনি না ।এক জন আমার ঘনিষ্ট বন্ধু আর একজন কলেজ মেট । প্রথম প্রথম কারো সাথে কথা বলতে কেমন যেন সংকোচ হত । ভাগ্য ভালো যে ,মেসের সব চেয়ে সিনিয়ার ছিলাম আমরা ৩ জন'ই ।
হঠাৎ করে আমার সেই কলেজমেট ফেন্ড আমাকে বেশ সিরিয়াস মুডে বলেছিল "ধ্রুব ,তুই কথা বলতে পারিস না ।"
আমি খুব স্বাভাবিক ভাবে বললাম ,''আসলেই পারি না রে ।কেও আমাকে কথা বলা শিখায় নি ।তুই শিখায় দে ।"
সে আর কিছু না বলে বিরক্ত মুখে চলে গেল ।
আমি সুন্দর করে কথা বলতে পারি কি না সেটা প্রমান করার কোন প্রয়োজন আমি বোধ করেছিলাম না । এখনো করি না ।
কি পারি না পারি সেটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব বিষয় ।অন্যের সাথে এ নিয়ে তর্ক করার কোন মানেই হয় না ।
"আমার সম্পর্কে যা ইচ্ছা ভাবার পূর্ণ অধিকার তোমাকে দিয়ে রাখা হয়েছে ।যা ইচ্ছা ভাবতে পারো ।তোমার ভাবনা আমাকে পরিবর্তন করতে পারবে না ।সে ক্ষমতা শুধুই আমার ।"
‪#‎অন্যকে‬ নিয়ে ভাবা বাদ দিন । নিজের চরকায় তেল দিন ।